শীতের মেঠেল রোদে বনভোজনেই আনন্দ
সৃঞ্চিনী পোদ্দারঃ শীতকাল মানেই হালকা মৃদু রোদের তপ্ততায় বনভোজন। একসাথে আনন্দ করা। একসাথে একটি জায়গার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে একটু জীবনে অন্য মাত্রা আনার মানেটাই আলাদা। সারাবছর নানা কর্ম ব্যস্ততার মাঝে আমরা সকলেই অপেক্ষায় থাকি যে কখন শীত আসবে। আর শীতের ছুটি কাটাতে বন্ধুবান্ধব হোক কিংবা অফিস কলিক কিংবা পরিবারের সকলের সাথে বনভোজন উৎযাপনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাওয়া।
বনভোজন শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, বনে গিয়ে ভোজন। তবে আজ তো আর সেটা হয় না। এখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জেলায় জেলায় অসংখ্য পিকনিক গার্ডেন , নানা রকমের বিনোদনমূলক পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে। তাই বর্তমানে রকমারি চাকচিক্কের মধ্যে আর বনে গিয়ে ভোজনের ধারা এখন আর সেইভাবে বজায় নেই।
তবে এক সময় শীতকাল মানেই ছিল কোনো জঙ্গলে গিয়ে একসাথে সকলে
রান্নাবান্না করা ,সেখানে বসেই ভোজন। নদীর পাড়ে সময় কাটানো। এইসব এক সময় হত। এখন আমরা
চারপাশ থেকে যেভাবে সবুজকে হারিয়ে ফেলছি তার মাঝে আর সেইভাবে সম্ভব হয়ে ওঠে না কোনো
বনে গিয়ে ভোজন করার। তবে এটা ঠিক যে, এতে কিন্তু একটা বেশ অ্যাডভেঞ্চার ছিল।
সারা বছর নিজেদের এতটাই ব্যস্ত থাকি আমরা সকলে তার উপর
আবার নানা রকম চিন্তা, কাজের চাপ। এক ঘেয়ে জীবন ধারা নিয়ে কাটে সারা বছর। তার মাঝে
শীতকালে একটু একদিন নিজেদের প্রিয়জনদের সাথে সময় কাঁটাতে গেলে তার জন্যে সবথেকে ভালো
উপায় বনভোজনের।
কারণ একদিনে কোথাও যাওয়া আসা সম্ভব নয়। এতে খাটনিও বেশি। কিন্তু কাছে পিঠে কোথাও একটা গিয়ে নিএরাই রান্নাবন্না করে নাচ গান করে আনন্দের সাথে সময় কাটানোর মজাই আলাদা। সারা বছরের শত কাজের চাপ থেকে একটু মুক্তি পাওয়া যায় শীতের বনভোজনে।
বাচ্চা থেকে আবাল বৃদ্ধ বণিতা – সকলের কাছেই একটি বনভোজনের
স্বাদ আলাদা। সারাদিন চার দেওয়ালের মধ্যে থাকার থেকে একদিন একটু খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে
মন খোলা নিজের মতো স্বাদ উপভোগ করার সুযোগ এনে দেয় বনভোজন ।
বনভোজনের ক্ষেত্রে সবথেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ,সঠিক জায়গা নির্বাচন করা। আর সেক্ষেত্রে সেটা অবশ্যই হওয়া উচিত কাদের সাথে নিয়ে এই বনভোজনটির আয়জন করা হয়েছে তার উপর। কেন না পরিবারের সদস্যদের সাথে আয়োজিত বনভোজনের ক্ষেত্রে এমন জায়গা দেখতে হবে যেখানে একটু পরিবারের দাদু ঠাকুমার মন খুলে কথা বলতে পারে। খোলা মেলা পরিবেশ। সেক্ষেত্রে এই জায়গাটা হোক না কোনো নদীর পাড়ে কিংবা হতে পারে কোনো নির্দিষ্ট পিকনিক স্পটে। তবে সেক্ষেত্রে স্থানটি সকলের কাছাকাছিঃ হলে যাওয়া আসায় সুবিধা হবে। কারণ বেশি দূরত্বের স্থানে যাওয়া আশায় পরিবারের বয়স্করা অনুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।
যদি বন্ধুবান্ধব কিংবা অফিসের সহকর্মীদের সাথে আয়োজিত বনভোজন হয় সেক্ষেত্রে কোনো জমজমাট স্থান দেখে নির্বাচন করা উচিত। বক্স লাগিয়ে গান বাজনার সাথে এই বনভোজনের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যদি তা কোনো খোলা মেলা জঙ্গলের মাঝে কিংবা নদীর পাড়ের ফাঁকা এলাকায় হোক। ক্ষতি কি। আশেপাশে বিনোদনমূলক পার্ক থাকলে তো আরোই ভালো হয়। অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে এই রকমে একটি স্থান বনভোজনের জন্যে বেশ রোমাঞ্চকরই হবে বলে আশা করা যায়।
কোনো পিকনিক স্পটে আয়োজিত পিকনিকে রান্নার ঠাকুর রান্নার ব্যবস্থা করছে। একদিকে পরিবারের কয়েকজন গল্প করছে। আবার আরেকদিনে কয়েকজন গান-নাচ করতে ব্যস্ত। শত চিন্তাকে সরিয়ে রেখে একদিন সারাদিন একেবারে মন খুলে বয়স নির্বিশেষে সকলের সাথে সময় কাঁটাতে বেশ ভালোই লাগে। তবে এ কথা ঠিক যে, সারাদিন এত হই হুল্লোর সেরে দিনের শেষে বাড়ির ফেরার মন সকলের মন যেন একদম ফ্রেস হয়ে যায়। হাজার চিন্তা যেন এক ধাক্কায় মাথার উপর থেকে নেমে বসে। পরের দিন থেকে সেই একই জীবন ধারা নিয়ে ছুটতে হলেও কাজের ক্ষেত্রে একটা আলাদা ভাবে আগ্রহ কাজ করে মনে।
বনভোজনের দিন সারাদিন কাটানো সমস্ত মূহুর্তগুলো ফেরার সময় সাথে করে নিয়ে আসার ফলে সেই গুলো পরবর্তী সময়ে ভেবে ভেবে নিজের বেশ একটা আলাদা আনন্দ হয় মনে মনে। মাঝে মাঝে জীবনের এক ঘেয়েমিতা কাঁটাতে একটু নিজেদের জন্যে বনভোজনের প্রয়োজন আছে। আমাদের মন অনেক অংশে হালকা করে শীতের বনভোজন।
নাম – সৃঞ্চিনী পোদ্দার
বিভাগ – সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপন
কলেজ রোল নম্বর – ২৭
রেজিস্ট্রেশন নং – 214-1222-0631-15
রোল নং – 214/JMC/191032
বিষয় – নিউ মিডিয়া প্র্যাক্টিকাল ইন্টারনাল
শ্রেণী – ৩য় সেমিস্টার ( স্নাতকোত্তর )






Comments
Post a Comment