"কাদম্বিনী" গল্প অবলম্বনে তৈরি করা হলো "দৃষ্টিদান" নাটক
দীর্ঘদিন করোনা মহামারির হাত থেকে বাঁচতে যাত্রা, থিয়েটার মঞ্চ থেকে শুরু করে বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজনা ছিলো স্থগিত। শিল্পমহলে একটা বিরতি পর্ব ছিলো গোটা লকডাউন এবং তার পরবর্তী বেশ কিছুটা সময় পর্যন্ত। তারপরেও বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হলে আস্তে আস্তে নিউ নর্মালে ফিরতে হয়েছে সংস্কৃতি জগতকে। তাই বিশ্ব বারেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত গল্প "কাদম্বিনী" কাহিনী অবলম্বন করে তৈরি করা হলো দৃষ্টিদান নাটকটি। কলকাতার তপন থিয়েটারে মঞ্চস্থ হলো দক্ষিণ কলকাতা কলাকুশলীদের গঠিত একটি অন্যতম নব প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত গল্প অবলম্বনে নাটক দৃষ্টিদান।
কুমুদিনীর ডাক্তার তার স্বামী অবিনাশের ভুল চিকিৎসার জেরে নিজের দুই চোখ নষ্ট হয়ে যায় । আর এই কাহিনীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে 'দৃষ্টিদান' নাটকটি। কুমুদিনীর দাদা সুবিমল কুমুদিনীর অনিচ্ছা সত্বেও বড় ডাক্তার নিয়ে এলো তার চোখের চিকিৎসার জন্য। পতিভক্তির পরাকাষ্ঠায় কুমুদিনী বড় ডাক্তারের ঔষুধ গ্রহণ করলেন না। সংসারে অন্ধ স্ত্রী যাতে গলগ্রহ না হয় তাই অবিনাশের পিসিমা তার ভাইজি হেমাঙ্গিনীকে নিয়ে এলেন অন্ধ বৌয়ের দেখাশোনা করবার জন্য। কালক্রমে হেমাঙ্গিনীকে বিয়ে করার আশায় অন্য অজুহাতে অবিনাশ বাড়ি ছাড়লেন। কিন্তু হেমাঙ্গিনীর বিয়ে হলো কুমুদিনীর দাদা সুবিমলের সাথে। অবিনাশ ও নিজের ভুল বুঝতে পেরে তার অন্ধ স্ত্রী কুমুদিনীকেই কাছে টেনে নিল।
আদ্যপান্তে এই নাটকে চরম পতিভক্তির এক অবিস্মরণীয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। যেটা আজকের দুনিয়ায় ভাবা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। অভিনয় গুন সমৃদ্ধে এই নাটক আগাগোড়া দর্শকদের আবেগ স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

Comments
Post a Comment