অশিক্ষিত বাচ্চারাই সচেতন সমাজ গড়ার হাতিয়ার
![]() |
| ছবি সংগ্রহেঃ Breaking Bangla |
সৃঞ্চিণী পোদ্দার, কলকাতাঃ পেটের দায়ে কলমের বদলে হাতে নিতে হলো কাঠামো। ও সচেতন সমাজকে সচেতন ও তার বার্তা দিতে প্রতিমা বিসর্জনের শেষে জলাশয় ভর্তি করে ফেলে রাখা প্রতিমার কাঠামো গুলো জল থেকে তুলে ঘাট পরিষ্কার করে বছর ১০- ১২ এর এই বালকেরা। তাদের শিশুই বলা যায়। তারাও অধিকার রাখে পড়াশুনা করার। তাদেরও যোগ্যতা রয়েছে বিদ্যালয় দরজা পেরোনোর।
তবে ভাগ্যের কি ফের বলুন? অর্থের অভাবে তারা বিসর্জন পর্ব শেষ হলে পরের দিন সকাল থেকে ঘাটে ঘাটে ঘুরে প্রতিমার কাঠামো তুলে ঘাট পরিষ্কার করে। তাদের অধিকার থাকে সমাজ গড়ার। তাদের অধিকার থাকে নতুন প্রজন্মকে গড়ে আরো সুন্দর করে তোলার। তবে পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাদের জীবনযাত্রা বদলে যায়। তার ফলেই এই চিত্র।
একদিকে বলা যায় যে, তারা কিন্তু সমাজ গড়ে তুলছে। অসচেতন সমাজকে সচেতন সমাজে পরিণত করছে। জল দূষণ রোধ করছে। প্রতিমা বিসর্জনের আগে ঘাটে ঘাটে থাকে স্থানীয় পৌরসভার নির্দেশাবলী। উল্লেখ থাকে জলে পুজোর উপকরণ না ফেলার কথা। কিন্তু নির্দেশ থাকেনা বিসর্জনের পরের দিন জল থেকে কাঠামোগুলো তুলে জল পরিষ্কার রাখার কথা। অথচ স্থানীয় এই বাচ্চা ছেলেগুলো যাদের আমরা লোফার তকমা দিয়ে থাকি, তারাই নিঃস্বার্থে জল থেকে কাঠামোগুলো তুলে ঘাট পরিষ্কার করে। সেক্ষেত্রে থাকেনা কোন পৌরসভার নির্দেশ। থাকে না কোন নির্দিষ্ট আইন। জোটে না সাধুবাদ টুকুও।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও করোনা সংক্রমনের কথা ভুলে গিয়ে ও বিজয়ের প্রাক্কালে নিজেদের কাজ ঠিক বজায় রেখেছে এই বাচ্চা ছেলেগুলো। এই অতি মহামারী রোগ তাঁদের দায়িত্ব পালনে কোথাও যেন বাধা হয়ে দাঁড়ালো না তারই প্রমাণ এই চিত্র।
স্থানীয় এই অশিক্ষিত বাচ্চা ছেলেগুলো অজান্তে কোথাও সমাজ গড়ার দায়িত্ব পালন করে চলেছে অনবরত। শিক্ষিত সমাজ যখন এইভাবে জলদূষণ করছে আরেকদিকে অশিক্ষিত সমাজ সেই জলদূষণ কে রোধ করছে। জল দূষণ থেকে জলকে পরিশ্রুত করছে। তারা অজান্তেই সচেতন সমাজ গড়ে তুলছে।
প্রতিবছর বিসর্জনে শেষে এই ভাবেই নিঃশর্তে পরিবেশ দূষণ থেকে সমাজকে রক্ষা করে এই বালকেরা। পড়াশোনা বদলে পরিস্থিতির শিকার হয়ে জল থেকে কাঠামো তুলে সচেতন এবং পরিষ্কার সুস্থ সমাজ গড়ার প্রতিবিম্ব তৈরি করে এরাই।

Comments
Post a Comment